আসসালামু আলাইকুম,
আশা করি সবাই আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। আমার
আজকের লেখা ফজরের সালাতের পর জেগে থাকা সম্পর্কিত কিছু টিপস ও ফযীলতকে ঘিরে। বেলা
করে ঘুম থেকে উঠার মতো অন্য কোন কিছুই আপনার দৈনন্দিন কর্মতৎপরতাকে ধ্বংস করে না।
অফিস কিংবা ক্লাসের ঠিক আগ মুহূর্তে ঘুম থেকে উঠে কোন রকমে জামা-কাপড় পড়ে, খেয়ে না
খেয়ে ছুটে গিয়ে বাস ধরা- একটি কর্মময় দিনের লক্ষণ নয় নিশ্চয়? হাঁপাতে হাঁপাতে যখন
অফিস কিংবা ক্লাসে গিয়ে পৌঁছালেন, স্থির হয়ে বসার ঠিক আগ মুহূর্তেই দেখলেন দুপুরের
খাবারের সময় হয়ে গেল, তারপর ইশার আযান। আপনার মনে হতে লাগলো পুরো দিনটাই ছিল
অসম্পূর্ণ। আর এর পেছনে মূল কারণ হল, আপনার হাতে ২-৫ ঘন্টার মত সময় ছিল যা কাজে
লাগিয়ে আপনি বাড়াতে পারতেন নিজের কর্মতৎপরতা, কিন্তু সে সময়টা আপনি কাটিয়েছেন
ঘুমিয়ে!
ধরতে পারছেন, আমি কোন সময়টার কথা বলছি? আমি
কথা বলছি ফজরের সালাতের ঠিক পরবর্তী সময়টি নিয়ে। এটি একটি বরকতময় সময়, যার
সম্পর্কে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’আ করেছেন এবং বলেছেন,
“হে আল্লাহ! আমার উম্মাতকে সকালের উত্তম সময়ের রহমত দান করুন।”
তাহলে আসুন, জেনে নেই সেই ৭ টি কাজ সম্পর্কে
যেগুলো আপনাকে সাহায্য করবে ফজরের সালাতের পরও জেগে থাকতে। আর ইনশা আল্লাহ আপনার
দিনকে করে তুলবে বরকতময় এবং সফল।
১. তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ুন এবং বিশ্রাম নিনঃ ইশার
সালাতের পর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তায়
নিজেকে জড়াতেন না এবং সালাত শেষে, ঘুমানোর জন্য সোজা বাড়ি ফিরে যেতেন। একই ধরনের
জীবন প্রবাহ রয়েছে সে সকল সম্প্রদায়ের মাঝে যাদের অঞ্চলে বিদ্যুৎ এখনও মিথ্যা
দিবালোকের জন্ম দেয়নি (আমাদের দেশে গ্রামাঞ্চলে গেলে এমনটি দেখা যায়)। এ সব অঞ্চলের মানুষ সূর্যাস্তের সাথে সাথে যাবতীয়
কাজ সম্পন্ন করে ফেলে এবং ইশার সালাতের পরপরই খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। আর ভোরে
সূর্যোদয়ের সাথে সাথেই ঘুম থেকে উঠে ফজরের সালাতের পর জীবিকার সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে।
বাড়তি ঘুমানো (ফজরের সালাতের পর যে ঘুম) যদি আপনার একেবারে জরুরি হয়ে পড়ে তবে
যুহরের আগে কিংবা পরে সামান্য ‘ভাতঘুম’ দিতে পারেন।