ইসলাম ও নারী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ইসলাম ও নারী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ৮ জুলাই, ২০১৪

রামাদানে নারীদের জন্য (যাদের মাসিক চলছে) ১০ টি সহজ ইবাদাত

- কোন মন্তব্য নেই


ইবাদাহ কী?
‘ইবাদাহ’ শব্দটি কেবল ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, কারণ অন্য সকল ভালো দিকও এর অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন,


আমার ইবাদাত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি।

[সূরা আয-যারিয়াতঃ ৫৬]

দু'আঅনেকেই ভুলবশত ‘ইবাদাত’ বলতে কঠোর সংযমী জীবন-যাপনকে বুঝে থাকেন। এটা মোটেই ঠিক নয়। ইসলামে ইবাদাত শুধু সালাত, মসজিদে যাওয়া, সাদাকাহ করা কিংবা হজ্জ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, কারণ যে কেউ যে কোনো হালাল কাজ, যেমনঃ ঘুমানো, খাওয়া, পান করা, কাজে যাওয়া ইত্যাদিকে ইবাদাতে রূপান্তর করতে পারে। এটা কীভাবে সম্ভব? শুধুমাত্র ভালো নিয়্যাতের মাধ্যমে! অর্থাৎ কেউ যদি এই নিয়্যাতে ঘুমায় যে, ঘুমালে তার শরীর বিশ্রাম পাবে, ফলে সে আল্লাহর ইবাদাত করার জন্য শক্তি পাবে, তবে এটাই ভালো নিয়্যাত। কেউ যদি পরিবারের ভরণ-পোষণ ও দেখাশোনার জন্য কাজে যায়, তবে এটাও ভালো নিয়্যাত এবং এর জন্য সে পুরস্কৃত হবে।

মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৩

যেভাবে একটি মুক্তা গড়ে উঠেঃ মুসলিম নারীদের জন্য একটি খুতবাহ (পর্বঃ ২)

« পর্বঃ ১



বিশ্বাসী মা, বোন, স্ত্রী সম্পর্কে এমন আরও অসংখ্য ঘটনা রয়েছে যা আমরা জানি এবং কিছু কিছু ঘটনা একমাত্র আল্লাহই জানেন। যখনই কোন হালাক্বার (ধর্মীয় আলোচনা) আয়োজন করা হয়, মুসলিম পুরুষদের চেয়ে নারীদের আধিক্য পরিলক্ষিত হয়। আমেরিকার উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই মুসলিম নারী। আপনি যদি কোন ইসলামিক আলোচনা কিংবা সম্মেলনে যান, সেখানেও দেখতে পাবেন মুসলিম ভাই ও বোনদের মধ্যে পার্থক্য। দুঃখজনক হলেও সত্য, মাঝে মাঝে ভাইদের মাঝে অনুপ্রেরণার অভাব দেখা বোনদের মাঝে তা দেখা যায় না। আর এটা যদি ভবিষ্যতেও পরিলক্ষিত হয়, তবে ইনশা আল্লাহ এই বোনগুলোই পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে একটি বিশ্বাসী নারী ও পুরুষের দল গড়ে তুলবে।
মুসলিম শিশু


ওয়াল্লাহু আকবার!

ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) যখন ছোট ছিলেন, তখনই তাঁর বাবা মারা গিয়েছিল। তিনি তাঁর ছাত্রদের বলতেন, তাঁকে বড় করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর মায়ের কঠোর পরিশ্রমের কথা এবং সবসময় তাঁর জন্য দু’আ করতেন। বাগদাদের হিমশীতল রাত্রিতে তাঁর মা অনেক আগেই ঘুম থেকে উঠে তাঁর জন্য পানি গরম করতেন, যাতে তাঁর ছেলে আহমাদ ফজরের সালাতের জন্য উযূ করতে পারে। তারপর তিনি তাঁকে কম্বলে জড়িয়ে নিজে শুধু তাঁর জিলবাবটি পড়ে নিতেন। আর ফজরের অনেক আগেই অন্ধকার ও শীতল গলির ভিতর দিয়ে প্রধান মসজিদের দিকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যেতেন, যাতে শ্রেণীকক্ষে তাঁর ছেলে ভালো আসনটি পান। তাঁর ছেলে আহমাদ যখন ২য় কিংবা ৩য় শ্রেণীতে পড়তো, তখন সারাদিন কুর’আন ও সুন্নাহ নিয়ে পড়তো, আর তিনি সারাদিন তাঁর ছুটির জন্য অপেক্ষা করতেন, যাতে তাঁকে নিরাপদে বাড়ি নিয়ে যেতে পারেন। আহমাদের বয়স যখন ১৬, তখন তিনি তাঁর জন্য অর্থ এবং খাবার সংগ্রহ করে তাঁকে বললেন, “জ্ঞানের অনুসন্ধানে ভ্রমণ কর।” ইমাম আহমাদ মক্কা, মদীনা ও বিভিন্ন জায়গার জ্ঞানীদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জনের জন্য বাড়ি ছেড়ে গেলেন। আর এভাবেই তাঁর মা তাঁকে ইসলামের চারজন বিখ্যাত ইমামের একজন হিসেবে গড়ে তুললেন।

যেভাবে একটি মুক্তা গড়ে উঠেঃ মুসলিম নারীদের জন্য একটি খুতবাহ (পর্বঃ ১)

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম



ইসলামের চিহ্নকে দুনিয়ার বুক থেকে মুছে ফেলার জন্য সীমান্তে খ্রিস্টান বাহিনীর প্রস্তুতির খবর যখন তাঁর কানে পৌঁছালো, আবু ক্বাদামাহ আশ-শামী’ই দ্রুত মসজিদের মিম্বারের দিকে ছুটলেন। একটি শক্তিশালী ও আবেগময় ভাষণের মাধ্যমে তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের মাঝে ইসলাম ও নিজেদের ভূখণ্ডকে রক্ষা করার জন্য এক তীব্র আকাঙ্ক্ষার আগুন জ্বালিয়ে দিলেন, ডাকলেন আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করার জন্য। মসজিদ ছেড়ে তিনি যখন অন্ধকার ও শান্ত গলি দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন একজন মহিলা তাঁকে থামালেন এবং বললেন, “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ!” আবু ক্বাদামাহ থামলেন, কিন্তু কোনো জবাব দিলেন না। মহিলাটি আবার সালাম দিলেন এবং সাথে এটাও যোগ করলেন, “একজন ধার্মিক লোকের জন্য এ ধরনের আচরণ ঠিক নয়।” তিনি কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে বললেন, “মুসলিমদের জিহাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মসজিদে বলা আপনার কথাগুলো আমি শুনেছি। আর আমার কাছে এই জিনিসগুলো আছে।” তিনি আবু ক্বাদামাহ এর দিকে দু’টি লম্বা চুলের বেণী বাড়িয়ে দিলেন, আর বললেন, “এগুলো ঘোড়ার লাগাম হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে। হতে পারে এগুলোর কারণেই, যারা জিহাদে যাচ্ছে তাঁদের খাতায় আল্লাহ আমার নাম উঠিয়ে দিতে পারেন।”



পরদিন মুসলিম গ্রামবাসীরা যখন খ্রিস্টান আর্মির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য রওনা করছিল, তখন একটি বালক ভীড় ঠেলে আবু ক্বাদামাহ এর ঘোড়ার সামনে এসে দাঁড়ালো। “আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার অনুমতি দিন।” কয়েকজন বয়স্ক যোদ্ধা বালকটিকে দেখে হাঁসলো। “ঘোড়া তোমাকে পদদলিত করবে,” তারা বলল। কিন্তু আবু ক্বাদামাহ তার চোখের দিকে তাকালেন, যখন সে আবার বলছিল, “আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে জিহাদে যোগ দেয়ার অনুমতি দিন।” এবার আবু ক্বাদামাহ বললেন, “একটা শর্তঃ যদি তুমি যুদ্ধে মারা যাও, তবে আমাকে তোমার সাথে জান্নাতে নিয়ে যেতে হবে।” বালকটি হাঁসলো। “এটি একটি অঙ্গীকার।”

দু’ দলের যোদ্ধারা যখন মুখোমুখি হয়ে তুমুল যুদ্ধে লিপ্ত হলো, তখন বালকটি আবু ক্বাদামাহ এর ঘোড়ার পেছন থেকে বলল, “আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে তিনটি তীর দিন।”
মুসলিম নারী
“তুমি সেগুলো নষ্ট করবে,” আবু ক্বাদামাহ বললেন।

বালকটি আবার বলল, “আল্লাহর ওয়াস্তে তীরগুলো আমাকে দিন।”

আবু ক্বাদামাহ তাকে তীর দিলেন এবং সে নিশানা ঠিক করল।

“বিসমিল্লাহ!” তীরটি ছুটে গেল এবং একজন রোমান সৈন্যকে হত্যা করল।

“বিসমিল্লাহ!” দ্বিতীয় তীরটি ছুটে গেল এবং আরেকজন রোমান সৈন্যকে হত্যা করল।